প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 9, 2026 ইং
তানোর মোহর হিন্দু পাড়ায় ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির অভিজ্ঞতা বিনিময়

রাজশাহীর মোহর গ্রাম হিন্দু পাড়ায় নারী উন্নয়ন সংগঠনের সদস্য ও মডেল শতবাড়ি পরিচালনাকারীদের নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি ও ব্যবহারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতি এবং কৃষি ও পরিবেশের জন্য এ সার ব্যবহারের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বিশেষ করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে কেঁচো সার ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে মাটির গুণগত মান ও উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে। ফলে গাছের শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানের চাহিদা পূরণ হয়। এতে গাছের পাতা সবুজ ও সতেজ থাকে এবং শিকড়ের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়ে।
এছাড়া ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে ফল ও সবজির আকার, স্বাদ ও পুষ্টিমান ভালো হয়। গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কমে আসে। ফলে কীটনাশকের ব্যবহারও কমানো সম্ভব হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি কৃষকের লাভ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে উৎপাদিত সবজি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় সতেজ থাকে বলেও আলোচনায় জানানো হয়।
সভায় আরও বলা হয়, কেঁচো সার দিয়ে সবজি চাষ করলে একসঙ্গে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ, রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমানো এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির মতো একাধিক উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব।
অভিজ্ঞতা বিনিময় শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা নিজ নিজ মডেল শতবাড়িতে কেঁচো সার তৈরির প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন।
আয়োজকরা জানান, পারিবারিক পর্যায়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে নিরাপদ সবজি চাষের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ